সাভার(ঢাকা) প্রতিনিধিঃ ঢাকার আশুলিয়ায় হাজী ইউনুছ আলী কলেজের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারের হত্যাকারীকে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে ৩য় দিনের মত বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দেয় শিক্ষার্থীরা। এছাড়া তারা আরো বৃহৎ আন্দোলনের ডাক দেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে আশুলিয়ার চিত্রশাইল হাজী ইউনুছ আলী কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া আগামীকাল বৃহস্পতিবার সাভার উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি সহ উপজেলা চত্বরে সমাবেশ করবে বলেও মানব বন্ধন থেকে জানানো হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে এবং সেখানে ৬ দফা দাবি তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা। নিহত শিক্ষক উৎপল সরকার সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ায় থানার এঙ্গেলদানি গ্রামের মৃত অজিত সরকারের ছেলে। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এবং ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বৃহৎ কর্মসূচী ঘোষনা করা হয়েছে। আগামীকাল সাভার উপজেলার সমস্ত স্কুল কলেজ আনুষ্ঠানিক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কাল বেলা ১১ টার দিকে সাভার উপজেলা চত্তরে উপজেলার সকল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে করা হবে। আজ কর্মসূচী চলবে দুপুর পর্যন্ত। শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে বলেন, ঘটনার দিন জিতু এলাকায় বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিয়েছে। স্যারের অবস্থার অবনতি হলে পর দিন জিতুর পরিবারসহ পালিয়ে যায়। ঘটনার দিন প্রমিলা ক্রিকেট ম্যাচের ৪ ওভারের মাথায় শিক্ষক উৎপলকে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে জিতু। আমরা জিতুর ফাঁসি চাই। এঘটনায় মামলা হলেও জিতুর বয়স দেখানো হয়েছে ১৬ বছর। কিন্তু জিতুর প্রকৃত বয়স মূলত ১৯ বছর। সে কয়েক বছর শিক্ষা বিরতি দিয়ে এই স্কুলে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে। এর আগে সে সাভারের একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। আমাদের দাবি জিতুর জন্ম সনদ খুজে তার বয়স তদন্ত করার জন্য। প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২৫ জুন) দুপুরে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে শিক্ষক উৎপলকে স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতু। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শিক্ষককে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে এবং পরে তার অবস্থার অবনতি হলে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানেই ২৭ জুন সোমবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় রোববার আশুলিয়া থানায় নিহত শিক্ষকের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেন। এর পর থেকেই বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা।