শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা : চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনাবৃষ্টি আর দাবদাহের কারণে ঝরে পড়ছিল আমের গুটি। মৌসুমের শুরুতে মুকুলে চোখ জুড়ালেও সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় গাছে আমের গুটি কম এসেছে, আর তীব্র দাবদাহের কারণে বোঁটা শুকিয়ে ঝরে পড়ছিল আমের গুটিগুলো। আবহাওয়ার এই বৈরী আচরণে চাষি ও বাগান মালিকরা চরম হতাশায় দিন পার করছিলেন।
অবশেষে দীর্ঘ দাবদাহের পর বুধবার বিকালে বৃষ্টি নামে আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে। ৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত আমের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বলে বলছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ফলটি পরিপক্ব হওয়ার আগে এই বৃষ্টি আশীর্বাদ বয়ে আনবে বলে জানিয়েছেন বাগানমালিক ও ফল বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘ খরায় আমের বৃদ্ধি ব্যাহত হলেও বৃষ্টির ফলে আকার দ্রুত বাড়বে বলেও আশা করছেন তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এদিন বিকালে জেলার সদর উপজেলায় ৫ মিলিমিটার, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৫ মিলিমিটার, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৫ মিলিমিটার, নাচোলে ৮ মিলিমিটার ও ভোলাহাট উপজেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫ মিলিমিটার। জেলায় গড়ে ৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
সদর উপজেলার আমবাগানি মনিরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় বোঁটা শুকিয়ে গাছ থেকে আমের গুটি ঝরে পড়ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বৃষ্টি আমের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তবে যে পরিমাণে বৃষ্টির দরকার ছিল, সে পরিমাণে হয়নি। তবুও যেটুকু হয়েছে তাতেই অনেক খুশি জেলার আমচাষিরা।
আমচাষি আব্দুর রহমান বলেন, বৃষ্টিতে আমের বাগানে সজীবতা ফিরেছে। আমগুলো দেখে সতেজ মনে হচ্ছে। আরো দুই-চারবার বৃষ্টি হলে আমরা আরো ভালো ফলন পাব, আমের আকারও বড় হবে। বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের আমচাষি শফিকুল ইসলাম বলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই মাসের বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হয়নি। এতে পর্যাপ্ত রস না পেয়ে আম বড় হচ্ছিল না। এছাড়া প্রচণ্ড দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছিল। তাই বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজও আদায় করেছিলাম। অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি নামল। শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের আমচাষি শামসুল আলম বলেন, আমের যখন মুকুল ছিল তখন বৃষ্টি সামান্য হয়েছিল এ অঞ্চলে। তারপর আর বৃষ্টির দেখা পাইনি। এতে আমের গুটি দ্রুত বড় হচ্ছিল না। তাই ঘন ঘন আমবাগানে সেচ দিচ্ছিলাম। কিন্তু এতেও তেমন উপকার পাইনি। বৃষ্টি হলো, এখন খুব দ্রুত আম বড় হবে।
কানসাট এলাকার আমচাষি সুজা মিয়া বলেন, আমার এ বছর ক্ষিরসাপাত, লক্ষণভোগ, ল্যাংড়া, আম্রপালি, আশ্বিনাসহ কয়েক জাতের আম গাছ রয়েছে। গাছগুলোতে বিপুল পরিমাণ মুকুল এসেছিল। তবে যে পরিমাণ মুকুল এসেছিল সে পরিমাণ আমের গুটি হয়নি। এতে ফলন নিয়ে শঙ্কায় আছি। তিনি আরো বলেন, এমনিতে গাছে গুটি কম এসেছে তার ওপর প্রায় দুই মাস থেকে বৃষ্টি হয়নি। এতে আম নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছিল আমার। তবে বৃষ্টির পর এখন স্বস্তি লাগছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পলাশ সরকার বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে বাগানে যেসব আমের বোঁটা শুকিয়ে গেছিল সেগুলো ঝরে পড়তে পারে। এছাড়া যদি কোনো এলাকায় শিলাবৃষ্টি হয়, তাহলে শিলার আঘাতে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে শিলা বৃষ্টি তেমন হয়নি। আর এই বৃষ্টি আমের জন্য আশীর্বাদ। এখন থেকে যত ঘনঘন বৃষ্টি হবে, আমের জন্য ততো ভালো। আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই বছর বাম্পার ফলন হবে। তবে টানা দাবদাহে আমের গুটিতে ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়তে পারে। পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহারেরও পরামর্শ দিয়েছেন এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।