বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে ৫৩ বিজিবির পৃথক অভিযানে নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ ও মোবাইল ফোন জব্দ শিক্ষককে মূল্য দিন, জাতি তার ফল পাবে ! জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর অভিযানে মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আটক-১  সোনামসজিদ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৬৭ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ সোনামসজিদে গৃহবধূ সুমাইয়াকে হত্যার প্রতিবাদ ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন  শিবগঞ্জে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সহায়তার প্রদান বিএনপি নেতা রাইহান পেশার মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে শিবগঞ্জে ফারিয়ার মানববন্ধন শিবগঞ্জে পদ্মার মাটি কাটার দ্বন্দ্বে যুবককে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর হামলা,শিবগঞ্জ প্রতিবাদে সভা শিবগঞ্জে ৩ নবজাতকের পাশে ইউএনও মাজহারুল ইসলাম।

শিবগঞ্জে দাম ও ফলন বেশী হওয়ায় স্ট্রবেরী চাষে ঝুঁকেছে বেকার যুবকরা,

এবার চাষ হয়েছে ১শ হেক্টর জমিতে

শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ স্বল্প মেয়াদী ফল হিসাবে দাম ভাল, ফলন বেশী এবং সংগে সংগে চাহিদাও দিনদিন বেশী হওয়ায শিবগঞ্জে শিক্ষিত বেকার যুবক কৃষকরা স্ট্রবেরী ফল চাষে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ফলে গত বছরের চেয়ে শিবগঞ্জ প্রায় পাঁচ গুণ বেশী স্ট্রবেরী ফলের চাষ হয়েছে। কৃষিসম্প্রসারণ বিভাগ বলছে বাহির থেকে স্ট্রবেরী ফল আমদানী বন্ধ করতে পারলে শুধু শিবগঞ্জেও স্ট্রবেরী ফল চাষে বিপ্লব ঘটবে এবং শিক্ষিত বেকার যুবকরা আর চাকুরী না খুঁজে স্ট্রবেরী ফল চাষ করে  স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে। সরজমিনে শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের পনের রশিয়া মাঠে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় পারকালুপুর গ্রামের আমানুল্লাহ হকের ছেলে কামেল পাশ মাওলানা ফাহাদ আলির । তিনি বলেন আমার দুইভাই ও পিতা সহ চার জন মিলে পাঁচ বছরের জন্য বিঘা প্রতি ৪০ হাজার টাকা দরে চার বিঘা জমি বর্গা নিয়ে স্ট্রবেরী ফলের আবাদ শুরু করেছি। এ ফলের মৌসুমের শুরুতে অক্টোবর/ নভেম্বর মাসে এক বছরের টাকা পরিশোধ করে চাষ করেছি। গত জানুয়ারী মাসে ফল উঠতে শুরু করেছে । জানুয়ারী মাসে ১ হাজার কেজি স্ট্রবেরী ফল উঠেছে। যা ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রী করেছি। পরে দাম কমেছে। বর্তমানে ৪শ টাকা দরে বিক্রী করছি। এপর্যন্ত ২হাজার কেজি ফল উঠেছে । যার দাম পেয়েছি প্রায় ১৫ লাখ টাকা। খরচ হয়েছে প্রায ৭ লাখ টাকা এবং মৌসুম শেষ হতে প্রায় আরো এক লাখ টাকা খরচ হবে। সব মিলিয়ে প্রায় খরচ বাদে আয় হবে মৌসুমে প্রায় ১৫লাখ টাকা। এ বছরে আমাদের লক্ষ্য মাত্রা প্রায় ২৫ লাখ টাকা। সবমিলিয়ে খরচ হবে প্রায় ১০ লাখ টাকা। তারপর এ জমিতে ভুট্টা বা পাট চাষ করতে পারি। যেখান থেকে ভাল আয় হতে পারে। তিনি আরো বলেন শুধু আমরা একই পরিবারে ৪ জনই ¯^াবলম্বী হয়নি। আমাদের সাথে সারা বছর ৪জন শ্রমিক কাজ করে। একই গ্রামের সায়েদ সাইবন আনোয়ারুল ইসলাম জানান ১৯৯৬ সালে ডিগ্রী পাস করে একটি জীবন বীমা সংস্থায় কাজ করতাম। কিন্তু গ্রাহকদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর টাকা প্রতিশোধ করতে গিয়ে সংস্থার সাথে নানা ধরনের ঝামেলা হওয়ায় কাজ ছেড়ে দিয়েছি। পরে অন্যস্থানে চাকুরীর জন্য চেষ্টা করেছি। কিন্তু অনেক টাকা চাহিদা থাকায় সে টাকার যোগান দিতে না পারায় অবশেষে একই গ্রামের দুরুল হোদার নিকট হতে পনের রশিয়া মাঠে পৌণে দুই বিঘা জমি বাৎসরিক ৪০ হাজার বিঘা দরে বর্গা নিয়ে স্ট্রবেরী ফলের চাষ শুরু করি। অন্যান্য বছর ভালই লাভ করেছি। কিন্তু এবার অনিবার্য কারণ বশত ফলন একটু কম হয়েছে। তারপর এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ টাকার স্ট্রবেরী ফল বিক্রী করেছি। সামনে আরো প্রায় দুই মাস ফল উৎপাদন হবে। আশা করি এ মৌসুমে খরচ বাদে আমার আয় হবে প্রায় ৩ লাখ টাকা। এ দুই জন ছাড়া শিবগঞ্জ পৌরসভা মাঠে কালুপুর গ্রামের কারিম পাঁচ বিঘা, রাসেল চার বিঘা,আজিম উদ্দিন চার বিঘা,এমরান আলি পাঁচ বিঘা সহ উপজেলার বিনোদপুর, মনাকষা, শাহাবাজপুর,কানসাট সহ শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৪শ জন বেকার যুবক কৃষক স্ট্রবেরী ফলের চাষ করেছে। যা গত বছর এর সংখ্যা ছিল ২৫০ জন এবং তার আগের বছর এর সংখ্যা ছিল মাত্রা ১শ জন। তবে স্ট্রবেরী ফল চাষে কৃষকরা কিছু সমস্যায় পড়ছে। তা হলো মাকড় নামে একজাতের খুব ছোট ছোট পোকা গাছের পাতা ও ফল নষ্ট করছে। এটা কোন রকমেই রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া যে সময় স্ট্রবেরী ফল চাষ করা হয় সে সময় সার ঠিক মত পাওয়া যায় না। কারণ সে সময় সার কৃষি অফিসে বরাদ্দ আসে না। আরো একটি অসুবিধা হলো স্ট্রবেরী ফল হলো খুবই ¯^ল্পমেয়াদী । অর্থাৎ মাত্র ২৪ ঘন্টা স্থায়ী থাকে। কৃষকরা জানান শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রথম স্ট্রবেরী ফলের চাষ করেন বিনোদপুর ইউনিয়নের পাকা টোলা গ্রামের মৃত তৈমুর রহমানের ছেলে ও বিনোদপুর মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা ইকবাল হোসেন। তিনি এবারও ১০বিঘা জমিতে স্ট্রবেরী ফলের চাষ করেছেন। আমরা অনেক সময় তার নিকট হতে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ নিয়ে থাকি। দূর্লভপুর ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা রয়েল উদ্দিন জানান , আমি প্রতি সপ্তাহে স্ট্রবেরী ফলের জমি পরিদর্শন করি এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমস্যর সমাধানের জন্য পরামর্শ দিই। তারা আমার পরামর্শ মত ব্যাপক হারে রাসায়নিক সার প্রয়োগ না করে জৈব সার প্রয়োগ করেন এবং পাখি ও পোকামাকড়ের হাত থেকে স্ট্রবেরী ফলকে রক্ষা করার জন্য জমির চারিদিকে ও উপরে সরু সুতার জাল টাঙানোর পরামর্শ দিয়েছি। তাতে অনেকটা রক্ষা হয়েছে।তাছাড়া তাদের সমস্যার কথা গুলো আমার উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানাই। অন্যদিকে শিবগঞ্জ পৌরসভার কৃষি কর্মকর্তা গোলাম আজম কনক জানান; এবার শিবগঞ্জ পৌরসভাতে সবচেয়ে বেশী স্ট্রবেরী ফলের চাষ হয়েছে। এ ফলের চাষে অধিক লাভ ও ফলন হওয়ায় এবং দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকরা দিন দিন স্ট্রবেরী চাষে ঝুঁকে পড়েছে। তিনি আরো বলেন আশা করি সামনে বছর আরো ব্যাপকহারে স্ট্রবেরী ফলের চাষ বৃদ্ধি পাবে। শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম জানান, স্ট্রবেরী ফল অত্যধিক পুষ্টিজনিত হওয়ায় এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া এ ফলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব বেশী। এ ফলের রস দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ঔষধ ও জুস তৈরী করা হয়। তিনি আরো জানান স্ট্রবেরী ফলের চাষ আরো বৃদ্ধি করতে হলে বাহির থেকে আমদানী বন্ধ করতে হবে। মাকড় পোকার আক্রমন নিয়ে ব্যাপকহরে গবেষণা চালাতে হবে। তিনি আরো বলেন স্ট্রেবেরী ফলের চাষ শিবগঞ্জে ইতিমধ্যে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন গত ২০২২ সালে শিবগঞ্জে মাত্র ৪বিঘা জমিতে স্ট্রবেরী ফলের চাষ হয়েছিল। গতবছর বৃদ্ধি পেয়ে ৭ হেক্টর জমিতে এবং এবছর তা আরো বৃদ্ধি পেয়ে ১শ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরীর ফলের চাষ হয়েছে। আশা করি সামনে বছরে এ ফলের চাষ আরো বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১হাজার হেক্টর জমিতে হবে। তিনি আরো বলেন বিশেষ করে স্ট্রবেরী ফলের চাষীদের সথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য আমার অফিসের প্রতিটি অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা সে মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছে।

View All


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা