শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধি
একমাত্র মাসুম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার জন্যই আজ ৬মাস থেকে আমি আমার স্ত্রী সাজিনুর বেগম বিছানয় শুয়ে শুয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আমি গরীব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। এ অবস্থায় মাসুম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার জন্য রোগীকে নিয়ে রাজশাহী যেতে হয়েছে। সঠিক চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ করেছি এবং আরো খরছ করতে হবে। জানিনা কতদিন পর আমার রোগী সুস্থ হয়ে উঠবে। কান্না জড়িত কণ্ঠে কথা গুলো বলছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামের মৃত হাজী নাজির হোসেনের ছেলে আরসেদ আলি(৬৮)।
শিবগঞ্জ থানায় আরসাদ আলির ¯^াক্ষরিত অভিযোগে ও সরজমিনে তার সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, আমার স্ত্রী সাজিনুর বেগমের মাথায় টিউমারের চিকিৎসার জন্য গত চলতি বছরের ১০ আগষ্ট শ্যামপুর ইউনিয়নের উপরপুর ঘাট এলাকায় পল্লী চিকিৎসক মাসুমের কাছে গেলে তিনি অপারেশন করতে হবে বলে পাশের একটি ঘরে নিয়ে যায়। তিনি টিউমারের অপারেশন না করে সেখানে এ্যাসিড নিক্ষেপ করে ক্ষতের সৃষ্টি করে। এরপর আমি তার কাছে কয়েকদিন ঘুরাঘুরি করে কোন ব্যবস্থা না করে দিয়ে শুধু কালক্ষেপণ করেন।
অবশেষে গত ১৫ সেপ্টে¯^র তার সাথে আমারা কয়েকজন আবারো দেখা করতে গেলে তিনি ও তার লোকজন আমাদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকী দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
একই গ্রামের জুলেখা বেগম জানান, আমার মেয়ের চিকিৎসার জন্য মাসুম ডাক্তারের কাছে গিয়েছে। প্রতিবারই ১ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। কিন্তু রোগী সুস্থ না হওয়ায় রাজশাহীতে চিকিৎসা করাতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছি। তার কাছে ঘুরেও কোন লাভ হয়নি। একই উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চককীতি নামোটোলা গ্রামের মনিরুল ইসলাম জানান, পায়ের ঘায়ের চিকিৎসা করাতে গেলে তিনি আমার হাতে ইনজেকশন করেন। এতে হাতে ইনফেকশন হয়ে যায়। পরে রাজশাহী গিয়ে অপারেশন করে সুস্থ হয়েছি। পরে মাসুম ডাক্তার আমার কাছে এসে ভুল ¯^ীকার করে।

মোবারকপুর ইউনিয়নের দড়িচক গ্রামের মৃত মজনুর রহমানের স্ত্রী রেবিনা বেগম জানান, আমার মেয়ে ময়না খাতুনের নাকে পলিপাসের চিকিৎসা করিয়েছি। অপারেশন বাবদ ৩ হাজার ও ঔষধ বাবদ ২ হাজার টাকা নিয়েছে। এখনো সুস্থ হয়নি। বরং আরো ক্ষতি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবর সকাল ১০টার দিকে জাতীয় পত্রিকা ও টেলিভিশনের ৫জন মিডিয়া কর্মী সরজমিনে মাসুম ডাক্তারের আদর্শ চিকিৎসালয়ে গেলে তিনি তার কয়েকজন লোককে ইশারা করে সরে যান। ভিতরে গিয়ে দেখা গেছে, একজন মহিলা রোগীর নাক অপারেশন করা হয়েছে। সে যন্ত্রনায় কাতারাচ্ছে। অপারেশন করা হারবাল চিকিৎসক মোজাম্মেল মিডিয়া কর্মীদের ছবি তুলতে বাধা দিয়ে বলেন, আমি অপারেশন করিনি, শুধু ওয়াশ করেছি। এসময় তিনি মিডিয়া কর্মীদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মাসুম ডাক্তারের মা, বোন, স্ত্রীসহ আত্মীয়-¯^জনকে সঙ্গে নিয়ে ঝাটা ও লাঠি নিয়ে মিডিয়া কর্মীদের তাড়াও করার চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয়রা বাধা দিলে তারা সরে যায়।
পরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, মাসুম ডাক্তার দীর্ঘদিন যাবত এভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে তার শাস্তি হয় না। মামলার অভিযোগের তদন্তকারী অফিসার এস.আই আরিফুল ইসলাম জানান, ঘটনার সত্যতা আছে। মাসুম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার জন্য রোগী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাসুম ডাক্তার কে না পাওযায় পুরো তদন্ত এখনো হয়নি। আমাদের উপস্থিতি পেয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ঔষধ তত্ত¡াবধায়ক অফিসের সহকারী পরিচালক মোসাম্মদ ফোয়ারা ইয়াসমীন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে একবার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আবারো আমরা তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা: এসএম মাহমুদুল হাসান বলেন, আমার জানা মতে তিনি একজন হোমিও ডাক্তার। তিনি এক সঙ্গে মিশ্র চিকিৎসা (হোমিও, এ্যালোপাথিক, কবিরাজী ও হারবাল) করতে পারেন না এবং অপারেশন করতে পারেন না। কিছুদিন আগে ঘটনাস্থলে গিয়ে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছিলাম। আবার জানলাম, দ্রুত প্রশাসনিকভাবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।