বুধবার সকালে মনাকষা ইউনিয়নের খড়িয়াল চৌকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তা মেরামতের সময় তার সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি জানান, আমি জনগণের কল্যাণে মনাকষার গোপালপুর, কুঠিরঘাট,পারচৌকা, রানীনগর, হাঙ্গামী, হাউসনগর, মনাকষা, বিনোদপুরের ক্যাপড়াটোলা, কালিগঞ্জ, বিশ্বনাথপুর, শ্যামপুরের চামা বাজার, দুর্লভপুরের কয়েকটি স্থানে ভাঙা রাস্তা মেরামত করে যাতায়াতে জনগণের ভোগান্তির শিকার হতে রক্ষা করেছি। এ কাজের জন্য আমি কারো নিকট হতে কোন টাকা পয়সা নিইনা।
সারাদিন ভ্যানচালিয়ে যা উপার্জন করি, তা থেকে সামান্য কিছু সংসারে খরচ করি। বাকি টাকা সঞ্চয় করি। কয়েকদিনের টাকা সঞ্চয় করে সেই টাকা দিয়ে ইট, বালু ও সিমেন্ট কিনে রাস্তা মেরামত করি। এভাবেই আমি রাস্তা মেরামতের কাজ করি। যেখানে আমি খুব আনন্দ পাই। কারণ আমার এ কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়। বিদ্যালয়ের পাশের বাড়ির গৃহবধু মৌসুমী বেগম জানান, মিস্টার অত্যন্ত গরীব মানুষ। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি ভ্যান চালিয়ে উপার্জিত টাকা সংসারে খরচ না করে জনগণের কল্যাণে রাস্তা মেরামত করে। আমাদের বাড়ির সামনে রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল।
মিস্টার আলি সেটি মেরামত করে যাতায়াতের উপযোগী করেজন ভোগান্তি দুর করেছে। মিস্টার আলির স্ত্রী শাহাজাদী বলেন, অভাবের সংসারে আমার স্বামী ভ্যান চালিয়ে যা উপার্জন করে তা সবই রাস্তা মেরামতের কাজে খরচ করে দেই। বারবার অনুরোধ করে সে আমার কথা শুনে না। তাই এখন আর কিছু বলি না। তার পুত্রবধূ হাসিনা বেগম জানান, আমার শুরুর কিস্তির ১২ হাজার তুলে, বাড়ি করার জন্য কেনা ইট, বালু সিমেন্ট, এমনকি বাড়ি একদিকের ওয়াল ভেঙ সে ইটগুলো ও নিয়ে গিয়ে রাস্তা মেরামত করেছে। তার কাজের জন্য আমাদেরে বাড়ির কাজে বন্ধ আছে।
তার বাড়ির আশেপাশের সাইফুল ইসলাম, মোত্তালেব হোসেন, কাজিরুল ইসলাম, কদমাবানু বেগম, নার্গিস বেগম, জমিলা বেগমসহ প্রায় ২০/২৫জন নারীপুরুষ একই ধরনের কথা বলেন। রাস্তায় চলাচলকারী, রিক্সা, ভ্যান, অটো, মাহেন্দ্র, সিএনজিসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চালক সেলিম, হাবলূ, ধুলুসহ ১৫-২০ জন চালক জানান, মনাকষা হতে বাঘরালী হয়ে কালিগঞ্জ-জমিনটোলা পর্যন্ত এ রাস্তা ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়েছিল । একমাত্র মিস্টা আলি তা নিজের টাকা দিয়ে রাস্তা মেরামত করায় আমরা ঠিকমত যানবাহন চালাতে পারছি।
তবে এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা শাহাদাৎ হোসেনের মন্তব্য নিতে গিয়ে মন্তব্য না দিয়ে দুজন মিডিয়াকর্মী চরমভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল হায়াত বলেন, মিস্টার গরীর হলে ও তার মধ্যে দেশপ্রেম আছে। আমাদের উচিত তাকে উৎসাহ দেয়া। আমি তাকে উপজেলা পরিষদ থেকে পুরস্কৃত করবো ইনশাল্লাহ।