বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে ৫৩ বিজিবির পৃথক অভিযানে নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ ও মোবাইল ফোন জব্দ শিক্ষককে মূল্য দিন, জাতি তার ফল পাবে ! জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর অভিযানে মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আটক-১  সোনামসজিদ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৬৭ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ সোনামসজিদে গৃহবধূ সুমাইয়াকে হত্যার প্রতিবাদ ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন  শিবগঞ্জে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সহায়তার প্রদান বিএনপি নেতা রাইহান পেশার মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে শিবগঞ্জে ফারিয়ার মানববন্ধন শিবগঞ্জে পদ্মার মাটি কাটার দ্বন্দ্বে যুবককে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ, মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর হামলা,শিবগঞ্জ প্রতিবাদে সভা শিবগঞ্জে ৩ নবজাতকের পাশে ইউএনও মাজহারুল ইসলাম।

পাথর কুড়িয়ে নিজের পড়ার খরচ জোগাচ্ছে ছোট্ট সাহেবা  

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউপির বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে পাথর কুড়িয়ে নিজের পড়া লেখোর খরচ যোগাচ্ছে ছোট্র সাহেবা। পাথর কুড়ার দৃশ্য দেখে গাড়ী থেকে নেমে শুনলাম মা ও মেয়ের জীবন কাহিনী ।

পাথর কুড়িয়ে রাস্তার পাশে জমা করছিলেন সাহেবা ও তার মা শলোকী বেগম। দেখা মাত্রই জানতে চাইল কোন প্রয়োজ আছে কি না। উত্তরে বললাম আছে।  শুনলাম তাদের হার না মানা জীবনের গল্প। সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমস অফিসের সামনে মা-মেয়েকে পাথর কুড়াতে দেখা যায়।

সাহেবার বাবা মোহাম্মদ আলী খান। পেশায় তিনি ভ্যানচালক। তারা দুই বোন আর তাদের বাবা-মা। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে। পাথর কুড়ানোর কারণ জানাতে চাইলে শলোকী বেগম বললেন, অভাবের সংসার। সাহেবা পড়ালিখা করতে চায়। কিন্তু যেখানে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে কিভাবে পড়ালিখার খরচ যোগান দেবো। সেই ভাবনা থেকে সকাল থেকে সন্ধ‌্যা পর্যন্ত পাথর কুড়াই।

তিনি আরও বললেন, প্রতিদিন ভারত থেকে ট্রাকে করে কয়েক রকমের পাথর আসে এ বন্দরে। মা ও মেয়ে মিলে গড়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ ডালি পর্যন্ত পাথর কুড়াই। বাড়িতে এনে পরিষ্কার করে সেগুলো বিক্রি করি। রকম ভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে কিনে নেয় পাথর আমদানি কারকরা। তবে বেশির ভাগ সময়ে একট্রলি পাথর ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারি। একসাথে টাকাটা হাতে পেলে সংসারের বিভিন্ন কাজে লাগাতে পারি।

শলোকী বেগম কুড়ানো পাথর বিক্রির টাকা কোথায় ব্যবহার করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, সাহেবার পড়ালিখার জন্য টাকাগুলো বেশি ব্যয় করা হয়। আর যে টাকা বাকি থাকে, সেটা দিয়ে সংসারের কাজে ব্যয় করি।

সাহেবার বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলার বালিয়াদিঘির এলাকায়। সে বালিয়াদিঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। করোনার সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সকাল থেকে সন্ধ‌্যা পর্যন্ত বাড়ির সব কাজে তার মাকে সহাযোগিতা করতো। এর আগে কুড়ানো পাথরের টাকা দিয়ে স্কুলের ভর্তি ফি ও ঈদের জামা কাপড় কিনেছে সে। স্কুল খোলার দিন ক্লাস করে, আর বাকি দিনগুলো সে পাথর কুড়ায়।

 

সাহেবা বলে, আমি পাথর কুড়াই, আর সেগুলো বিক্রি করি। যে টাকা পাই, সেটা দিয়ে পড়ালিখা আর সংসারের কাজে ব্যয় করে মা।

View All


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা