চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে জনবল সংকটের কারণে ভোগান্তিতে গ্রাহক ও অফিসের কর্মচারীরা। সরাজমিনে অফিসের কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে লোকবল আছেন কর্মকর্তাসহ ৫ জনবল সংকটের কারণে পাসপোর্ট করতে আসা গ্রাহকদেও দীর্ঘ লাইন ধরে থাকতে হয়। পাসপোর্ট করতে আসা গ্রাহকরা জানান প্রথমে স্বাক্ষরের জন্য ১০১ নং কক্ষে যেতে হয়।জনবল সংকটের কারনে সেখানে অনেক হয়রানী হতে হচ্ছে। সেখানে থেকে ১০৩ নম্বর রুমে গিয়ে আবেদন পত্রটি স্কান করাতে হয়। এরপর ১০৫ নম্বর রুমে গিয়ে ছবি, স্বাক্ষর, ফিঙ্গার, চোখের স্ক্যান করান। যার ফলে রুম গুলোর সামনে ভিড় লেগে থাকে। সংকট কাটানের জন্য প ্রতি কক্ষে কমপক্ষে আরো দুই জন করে কর্মকর্তা প্রয়োজন। তবে শত কষ্টের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ভোগান্তি অনেকটা কমেছে কর্মকর্তা কর্মচারীদের তৎপরতায়।তারা জানানা হয়রানি, ভোগান্তি ও ঝামেলা ছাড়াই নির্বিঘ্নে বায়ো-এনরোলমেন্ট ও পাসপোর্ট উত্তোলন করছেন আবেদনকারীরা। ওই অফিসে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ এর অধিক আবেদন জমা হয়। প্রতিদিন সকাল ৯ টার মধ্যে অফিসের প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ শুরু করেন। এখানে রোস্টারিংয়ের মাধ্যম গুরুর্ত্ব ডেস্কগুলোর কাজ আগে করা হয়। মূলত অফিস কর্তৃপক্ষের টার্গেট থাকে প্রত্যেক আবেদনকারী যেন সেবা পায়।পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান সেবা প্রার্থীদের সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। সার্বক্ষণিক সিসিটিভির মাধ্যমে প্রতি ফ্লোর, কাউন্টার মনিটরিং করছেন। অফিসের মূল ফটকে আনসার সদস্যরা ডিউটি পালন করছেন। নিজের পাসপোর্ট করতে এসে জাহিদ প্রতিবেদকে বলেন, ‘আমি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে এসেছি, একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে আবেদন ফরম পূরণ করে জমা দিয়েছিলাম। আমার কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি। এই অফিসে দায়িত্বে যারা ছিলেন তারা আমাকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। একটু লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। শিবগঞ্জ উপজেলার মান্নান জানান, ২৩ দিন আগে পাসপোর্ট আবেদন করেছিলাম। সঠিক সময়ের মধ্যেই পাসপোর্ট হাতে পেয়েছি । নাচোল উপজেলার ইসমাইল জানান, পাসপোর্ট করতে এসে একটু সমস্যায় পড়েছিলাম, তারপর বড় অফিসারের রুমে সরাসরি গিয়ে সমস্যার কথা বলি, তিনি সব কিছু শুনে অল্প সময়ের মধ্যেই সমাধান করে দিলেন। দালালদের দৌরাত্ব কমে গেছে।সেবার মান সম্পর্কে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘পাসপোর্ট পাওয়া নাগারিকদের বৈধ অধিকার। আবেদন ফরমে যেসব শর্তাবলি থাকে তা সুন্দরভাবে পূরণ করে দিলে পাসপোর্ট পেতে কোনো ধরনের ঝামেলা থাকে না। আমি এখানে যোগদান করার পর থেকে প্রতিনিয়ত পাসপোর্ট করতে আসা আবেদনকারীদের সমস্যাগুলো শুনে তার সমাধান দেয়ার চেষ্টা করছি। যেসব আবেদনে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে প্রধান কার্যালয়ে কথা বলে সমাধান করা হচ্ছে।তিনি আরো বলেন, পাসপোর্ট করতে আসা অনেকের তথ্যের গরমিল থাকে। যেমন পিতা মাতার নাম, জন্ম তারিখ, ভোটার আইডি কার্ড সহ বিভিন্ন সমস্যা। যাদের আবেদনে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে, তাদের পাসপোর্ট পেতে একটু সময় লাগছে। এক্ষেত্রে যাতে সময় আরো কম লাগে সে ব্যাপারে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান সময়ে ভোটার আইডি কার্ডের সাথে মিল রেখে পাসপোর্ট করতে হলে এখন আর কোটের এপিড ডেপিড এর কাগজ লাগেনা। এ সমস্যা সমাধানের জন্য শুধুমাত্র পাসপোর্ট করতে আসা ব্যক্তির নিজ অঙ্গীকার নামা থাকলেই হবে।প্রতিদিনের মধ্যে শেষ করতে হয়। প্রায় প্রতি দিনিই আমরা অফিসের সময় শেষ হবার পরও সার্ভিস দিয়ে থাকি। যাতে কেউ ঘুরে না যায়।
প্রকাশক ও সম্পাদক : সাংবাদিক, মোহাঃ মামুন উর রশিদ
মোবাইল : ০১৭১৩-৮৮৬৭৪৫
বার্তা সম্পাদক : মোসাঃ ঝর্ণা পারভীন (এমএ)
মোবাইল : ০১৭৯৯-১০৩৪৭০
ঠিকানাঃ মিরপুর-১২০১ ঢাকা।
নিউজ পাঠানোর
মেইলঃ desh50tv@gmail.com