সাভার(ঢাকা)প্রতিনিধি : ঢাকার আশুলিয়ার অধিকাংশ পোশাক কারখানা ছুটি হওয়ায় ফলে বিভিন্ন সড়কে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। ভ্যাপসা গরম আর রোদ উপেক্ষা করেই স্বজনদের সাথে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপনের জন্য শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া ছাড়ছে মানুষ। তবে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া হওয়ার ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক, পিকআপ ও বাসের ছাদে করে যাচ্ছেন তারা। বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলগামী দূরপালস্নার পরিবহনের কাউন্টারগুলোতে কয়েকগুন বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন যাত্রীরা। তবে এসব ব্যাপারে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তারও অভিযোগ করেন তারা।
বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে নবীননগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল, জিরানী বাজার ও শ্রীপুর এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর, বাইপাইল-আব্দুলস্নাহপুর সড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ভীর বাড়তে থাকে যাত্রীদের। তবে বাসের তুলনায় ট্রাকে ও পিকআপে ভাড়া কম হওয়ায় এগুলোই বেছে নিয়েছে অনেকে। যার ফলে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়।
নাহিদ হাসান নামে এক শ্রমিক বগুড়া যাওয়ার জন্য বাইপাইল এলাকার টিআর ট্রাভেলস কাউন্টার থেকে চারটি টিকেট কিনেছে। প্রতিটি টিকেটের মূল্য রাখা হয়েছে ১১'শ টাকা। যদিও এই রুটের স্বাভাবিক ভাড়া ৪৫০ টাকা। তিনি জানান, ৪৫০ টাকার টিকিট তার কাছ থেকে রাখা হয়েছে ১১'শ টাকা করে। বাড়ি যেতে হবে তো? পরিবারের সকলের সাথে ঈদ উদযাপন করতে হবে।
এদিকে, বাসের ভাড়া বেশী হওয়ার কারণে উত্তবঙ্গের বিশেষ করে বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, রাজশাহী সহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষজন বিশেষ করে পোশাক শ্রমিকরা ট্রাকে করে বাড়ি যাচ্ছেন। ঝুঁকি থাকা সত্বেও সাশ্রয়ে যাওয়ার জন্য ট্রাক-পিকআপভ্যান বেছে নিয়েছেন তারা। ট্রাকে করে বগুড়ায় গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন পোশাক শ্রমিক নাছরিন। তিনি জানান, বাসের ভাড়া বেশী চাচ্ছে। আর ট্রাকে ভাড়া তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তাই ট্রাকে করেই বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। ঝুঁকি থাকা সত্বেও টাকা বাঁচানোর জন্য এটিই বেছে নিয়েছেন।
আরেক নারী শ্রমিক রোকসানা আক্তার জানান, তিনিও বগুড়া যাচ্ছেন। বাসে ভাড়া চাচ্ছেন ১হাজার টাকা থেকে ১৩'শ টাকা পর্যন্ত্ম। আর ট্রাকে ভাড়া ৫'শ। তাই বাধ্য হয়েই ট্রাকে যাচ্ছি। ইয়াসিন নামের এক ব্যক্তি দুটি ড্রাম নিয়ে বসে আছেন বাইপাইল এলাকায়। তিনি ঈদে বাড়ি যাচ্ছেন সিরাজগঞ্জে। কিন্তু বাসের ভাড়া গত বছরের থেকে দুই গুন বেশি চাচ্ছেন। তাই ট্রাকের জন্য বসে আছেন। ট্রাকে ভাড়া অনেক কম। রংপুরে যাবেন পোশাক শ্রমিক রতন মিয়া। তিনি জানান, তিনি গার্ড়ী জন্য দুই/তিন ঘন্টা ধরে অঅপেক্ষা করছেন। কিন্তু দূর পাল্লার সব গাড়িতেই ভাড়া চাচ্ছেন কয়েকগুন বেশী। যেখানে ভাড়া ৭'শ থেকে ৮'শ থাকার কথা সেই ভাড়া চাচ্ছেন ১৫'শ থেকে ১৬'শ টাকা। তাই ট্রাকের জন্য বসে আছেন তিনি। ট্রাকে ৫'শ থেকে ৬'টাকা হলেই যাওয়া যাবে।
বাইপাইল এলাকার টিআর ট্রাভেলসের কাউন্টার ম্যান ফরহাদ হোসেন বলেন, 'সব গাড়িতেই এভাবে ভাড়া নিচ্ছে। আমরাও নিচ্ছি। ঈদের সময় সবাইতো বাড়িতে যাবে। মালিকরা যেভাবে বলেছে আমরাও তাই করছি। বাইপাইল এলাকায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মো. মামুন বলেন, 'আমার কথা বলার কোন পারমিশন নাই ভাই।'
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, পোশাক কারখানাগুলো ছুটি হয়ে যাওয়ায় সড়কে ঘরমুখো মানুষ ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। তবে সড়কে যাত্রীদের অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।'
প্রকাশক ও সম্পাদক : সাংবাদিক, মোহাঃ মামুন উর রশিদ
মোবাইল : ০১৭১৩-৮৮৬৭৪৫
বার্তা সম্পাদক : মোসাঃ ঝর্ণা পারভীন (এমএ)
মোবাইল : ০১৭৯৯-১০৩৪৭০
ঠিকানাঃ মিরপুর-১২০১ ঢাকা।
নিউজ পাঠানোর
মেইলঃ desh50tv@gmail.com